Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

নির্যাতনের শিকার প্রতিটি শিশুর মনে গভীর ক্ষত থাকে। শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতন—যে আঘাতই হোক না কেন, তা তাদের শৈশব কেড়ে নেয়, আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। কিন্তু সঠিক সেবা, মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ পরিবেশ দিয়ে এই ক্ষত শুকানো সম্ভব। বাংলাদেশে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও বিভিন্ন এনজিও নির্যাতিত শিশুদের পুনর্বাসনে কাজ করছে। কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও শিক্ষার মাধ্যমে তারা ফিরে পায় হারানো স্বপ্ন। সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এসব শিশুকে বুকে টেনে নেওয়া, তাদের বলা—তুমি একা নও, তোমার জন্য নতুন ভোর অপেক্ষা করছে।

শুধু আইনি সহায়তা বা কাউন্সেলিং যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন সামগ্রিক পুনর্বাসন। নির্যাতিত শিশুকে প্রথমে নিরাপদ আশ্রয় দিতে হয়। বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে থাকার ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু আসল কাজ শুরু হয় শিশুটি যখন মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শেখে। বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলরদের মাধ্যমে ট্রমা থেকে মুক্তির পথ দেখানো হয়। খেলার মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্পচর্চার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া—এসব পদ্ধতি শিশুর ভাঙা মনকে ধীরে ধীরে সারিয়ে তোলে।

পাশাপাশি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সংস্থা নির্যাতিত শিশুদের জন্য ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ চালু করেছে, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পরিবারের সঙ্গেও কাজ করা জরুরি—কারণ অনেক সময় শিশুটি যে পরিবারেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সেখানে ফিরে গেলে পুনরায় ঝুঁকি তৈরি হয়। পারিবারিক পুনর্মিলন সম্ভব হলে তাও করা হয় সতর্ক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

সমাজের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম, স্কুল, মসজিদ ও মন্দির—সব স্তরে নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের জানাতে হবে ‘তোমার শরীর তোমার নিজের’, কেছু স্পর্শ খারাপ, আর সাহস করে বলতে শিখতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিবেশীরাও যদি সংবেদনশীল হয়, তবে আশপাশের কোনো শিশু বিপদে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

সরকারি উদ্যোগের মধ্যে জাতীয় শিশু কল্যাণ বোর্ড, শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার—এসব প্রতিষ্ঠান নির্যাতিত শিশুদের জন্য আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার একীভূত সেবা দিচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো যেমন ব্র্যাক, টিয়ারফান্ড, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনিসেফ স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলছে।

শিশুর মুখে হাসি ফেরানো সম্ভব—যদি আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করি। একটি স্পর্শ, একটি বিশ্বাস, একটি সুযোগ নতুন আশার জন্ম দিতে পারে। নির্যাতনের অন্ধকার যত গভীরই হোক, ভালোবাসা ও সঠিক নির্দেশনায় সেই অন্ধকার কেটে যায়। প্রতিটি শিশুই ফিরে পেতে পারে তার হারানো শৈশব—আর সেই শৈশব থেকেই গড়ে উঠবে আগামীর উজ্জ্বল দিন।

Nulla volutpat, risus at cursus pretium, erat tellus gravida lectus, at hendrerit libero mi et erat. Curabitur dignissim diam eu orci ultricies tempus. In accumsan tempor libero vel fermentum. Nam a fringilla justo. Vivamus dapibus at sapien eget ullamcorper. Nullam ullamcorper, odio sit amet luctus tristique, sem enim cursus lorem, in finibus velit elit ac augue. Donec vehicula non elit tempus hendrerit. Suspendisse porta ut eros id tempus. Curabitur non odio ut nisl suscipit pretium.

Leave a comment